বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল চাকরিমুখী শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
  • •তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল চাকরিমুখী শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
  • •শিক্ষার সংখ্যাগত অর্জনের পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি।

শিক্ষার সংখ্যাগত অর্জনের পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি। সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই হয় গবেষণার জন্য, মুক্তবুদ্ধির চিন্তার জন্য।

’ শুধু জিপিএ-৫ অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হয় না উল্লেখ করে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও সনদ অর্জনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অপসংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করেছে মন্তব্য করে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে এমন প্রবণতা তৈরি করা সম্পন্ন হয়েছে, যা জাতিকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কোনো জাতিকে যদি ধ্বংস করে দেওয়া যায়, সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মাধ্যমে সেটা শুরু হবে। যেটা বিগত ফ্যাসিবাদের সময় আমরা দেখেছি। এই জাতিতে কালচারাল ইন্ডাকশন সম্পন্ন হয়েছে, রিলিজিয়াস ইন্ডাকশন সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অপসংস্কৃতির শিক্ষা ব্যবস্থা ঢুকিয়ে দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। ’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মোরালি এই জাতিটা ধীরে ধীরে ধ্বংসপ্রবণ হয়, সেই ব্যবস্থা করা সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ইন্টেলেকচুয়াল পলিউশন ঢোকানো সম্পন্ন হয়েছে আমাদের এই কালচারে। কিন্তু সেটা সম্পন্ন হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। সেটা খুবই দুঃখজনক ছিল। ’ উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহিত করা শুভ লক্ষণ নয়। কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের কারিগরি, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করায় এ পরিস্থিতি তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। যারা শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হবেন, তাঁদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যেসব জাতির লাইব্রেরি সমৃদ্ধ এবং গবেষণার চর্চা বেশি, সেসব জাতি জ্ঞান ও শিক্ষায় এগিয়ে থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ ও মুক্তচিন্তার চর্চা বাড়াতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুতি দিলে তা বাস্তবায়ন করতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ ও আবাসিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর আবাসিক সুবিধাসহ স্বতন্ত্র ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগের কথা তিনি জেনেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া প্রাসঙ্গিক হলেও সেগুলোর নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন হওয়া উচিত নয়। সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যথাসময়ে দাবিদাওয়া পূরণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মোরালি এই জাতিটা ধীরে ধীরে ধ্বংসপ্রবণ হয়, সেই ব্যবস্থা করা সম্পন্ন হয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহিত করা শুভ লক্ষণ নয়।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]