বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রচারাভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। বিজেপির আপত্তির মুখে সেই প্রচারণা সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেয় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রচারাভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।
  • •বিজেপির আপত্তির মুখে সেই প্রচারণা সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেয় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)।
  • •এ নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা অভিনেত্রীকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে।

এ নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা অভিনেত্রীকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে। বিজেপি সমালোচক বা ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দেশবিরোধী’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ কিংবা ‘হিন্দুত্ববিরোধী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।

সম্প্রতি অভিনেত্রী দিয়া মির্জা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ তালিকায় ফেলার ঘটনায় আবার আলোচনা শুরু সম্পন্ন হয়েছে। প্রচারণাটি নিয়ে আপত্তি তুলে ধরেন বিজেপির মুম্বাই শাখার প্রধান অমিত সাতাম।

তার আপত্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএমসির সামাজিক মাধ্যম থেকে প্রচারণার পোস্টগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর দিয়া মির্জাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো সম্পন্ন হয়েছে।

তবে বিজেপি নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়া তারকাদের তালিকায় অভিনেত্রী দিয়া মির্জাই প্রথম নন। এ সরকারের নীতি, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা সামাজিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে মত দেওয়ায় একাধিক অভিনেতাকে বিজেপি নেতাদের আক্রমণের মুখে পড়তে সম্পন্ন হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনায় আসা এমন কয়েকজন তারকা হলেন— বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোয় এবং সরকারের সমালোচনায় মুখ খোলায় তাকে ‘দিমাগি নকশাল’ ও ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবাদে তিনি নিজেই গর্ব করে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে পাল্টা মন্তব্য করেছেন।

এমন সমালোচনা নাসিরুদ্দিন শাহ করে বহুবার আলোচনায় এসেছেন। এর আগে ২০২৩ সালে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে সরকার।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন এ বর্ষীয়ান অভিনেতা। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ম্যাঙ্গালুরুতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রকাশ রাজ বলেছিলেন, এসআইআরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুধু ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই নয়; বরং নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এবং আরএসএসের আদর্শে পরিচালিত বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টাও।

একাধিকবার বিজেপি নেতাদের সমালোচনার মুখে দেখা দিয়েছেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। ২০১৮ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘পদ্মাবত’ মুক্তির আগে ছবিটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।

সেই সময় হরিয়ানার বিজেপি নেতা সুরজ পাল আমু ছবির পরিচালক ও প্রধান অভিনেত্রী দীপিকার শিরশ্ছেদের জন্য ১০ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর মুখোশধারীদের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে গিয়ে সংহতি তুলে ধরেন দীপিকা পাড়ুকোন।

এরপর বিজেপির দিল্লি শাখার মুখপাত্র তাজিন্দর পাল সিং বাগ্গা ও দক্ষিণ দিল্লির সংসদ সদস্য রমেশ বিধুরী তার সমালোচনা করেন। দীপিকার তৎকালীন মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবি ‘ছাপাক’ বয়কটেরও ডাক দেন তারা।

বিজেপি সংসদ সাক্ষী মহারাজসহ দলের আরও কয়েকজন নেতা অভিনেত্রীকে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর সমর্থক বলেও আখ্যা দেন। বিজেপি সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্যের সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন মডেল-অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত।

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘জেনারেশন গাটার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা। এর প্রতিবাদ তুলে ধরেন রাখি সাওয়ান্ত।

অভিনেতা ইমরান খানও সম্প্রতি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছেন। ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী এ অভিনেতা মুম্বাইয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

অতীতেও জামিয়া, জেএনইউয়ের শিক্ষার্থী, ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক, অধিকারকর্মী এবং কড়া ভাষায় সরকারের সমালোচনা করা শিল্পীদের একটা বড় অংশকে বিজেপি ও তাদের সমর্থকগোষ্ঠী বা সামাজিক মাধ্যমের ট্রলের মাধ্যমে এই ‘দেশবিরোধী’ বা ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ তকমায় ফেলা সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি, যারা দেশের সংবিধান, সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশবিরোধী।

অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ— সরকারের যেকোনো ধরনের সমালোচনা বা ন্যায্য প্রতিবাদ দমন করতে ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিকভাবে ‘দেশবিরোধী’ তকমাটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]