বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পর্যায়ে নতুন ঘটনাপ্রবাহ: বাড্ডায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে বাসায় ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ-কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফের বিরুদ্ধে গভীর রাতে এক নারীর বাসায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন রাবেয়া আক্তার (৩৫) নামের ওই নারী।
ঘটনার বিশদ বিবরণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
পরে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে রাবেয়া আক্তার এসব অভিযোগ করেন। তিনি উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকার একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
লিখিত অভিযোগে রাবেয়া আক্তার তুলে ধরেন, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে এসআই হানিফ, মজিরুন নেছা, মো. দিপু, সুমি এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজন ব্যক্তি সিভিল পোশাকে তার বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বাসার গেট খুলতে সামান্য দেরি হওয়ায় এসআই হানিফ দরজায় একাধিকবার লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে বাসার মূল ভাড়াটিয়ার চার, আট ও ১২ বছর বয়সী শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন বলে উল্লেখ করা হয়। রাবেয়ার দাবি, পরে ওই ব্যক্তিরা জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করেন। এ সময় তার নগদ ৬ হাজার টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং একটি ব্লুটুথ স্পিকার নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এসআই হানিফ তাকে যেকোনো সময় যেকোনো মামলায় গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। ওই অভিযোগে এসআই হানিফের কথিত সহযোগী হিসেবে মজিরুন নেছার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা সম্পন্ন হয়েছে। ভুক্তভোগী রাবেয়া আক্তার (নিপা) উল্লেখ করেন, আমার সাথে এসআই হানিফ যে আচরণ করেছেন তা স্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন। আমি বাড্ডা থানায় অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার না পাওয়ায় ডিএমপি কমিশনার মহোদয় বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। এতেও যদি বিচার না পাই তাহলে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির কাছে যাব। তাতেও প্রতিকার না পেলে মামলা করবো। আমি এসআই হানিফ ও মুজিরুন নেছার কঠিন বিচার চাই। অপর ভুক্তভোগী দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও মাজেদা খাতুন উল্লেখ করেন, এই মুজিরুন নেছা এসআই হানিফের আশকারায় যা ইচ্ছে তাই করতেছে আমার সম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকী দিচ্ছে। আমাকে কাশিমপুর কারাগারের সামনে মারধর করেছে। আমার সংসারটা তো নষ্ট করছেই এখন আবার বাহিরেও বিভিন্ন মানুষের সাথে এসব করে বেড়াচ্ছে। শুনেছি এসআই হানিফকে নিয়ে গভীর রাতে নিপার বাসায় গিয়েও ঝামেলা করে হুমকি ধামকী দিয়ে এসেছে। অভিযুক্ত সুমি উল্লেখ করেন, সেদিন নিপার বাসায় মাসুদকেসহ হাতেনাতে ধরা সম্পন্ন হয়েছে। নিপা তো আরো অনেক ছেলেদের সাথে এসব করে বেড়াচ্ছে। সকল প্রত্যক্ষদর্শীরা তো বলছে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি আপনি বলছেন পাওয়া গেছে আপনার কথা তো মিলছে না। প্রতিবেদক এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ফোন বিচ্ছিন্ন করে দেন। মুজিরুন নেছার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত এসআই তারেক আজিজ উল্লেখ করেন যেহেতু ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ সম্পন্ন হয়েছে, কাগজ আসুক আমি লিখিত জবাব দিব। প্রধান অভিযুক্ত বাড্ডা থানার এসআই হানিফ উল্লেখ করেন, আমার ওই এলাকায় ডিউটি ছিল আমি হৈ-হুল্লোর শুনে সেখানে গিয়েছি। আপনি যা বলছেন তা সত্য নয়। আপনি যা পারেন করেন গিয়ে বলেই ফোন বিচ্ছিন্ন করে দেন। বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মো. নাসিরুল আমিন উল্লেখ করেন, আমার জানা নেই। পরবর্তীতে অভিযোগের কপি তার কাছে পাঠালেও তিনি আর কোন সাড়া দেননি। ডিসি (গুলশান বিভাগ) মোহাম্মদ রুহুল কবির খানের সাথে একাধিক ভুক্তভোগীরা দেখা করলে তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আবারো যোগাযোগ করা হলে তিনি দেখবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন রাবেয়া আক্তার (৩৫) নামের ওই নারী। পরে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে রাবেয়া আক্তার এসব অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে রাবেয়া আক্তার তুলে ধরেন, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে এসআই হানিফ, মজিরুন নেছা, মো. দিপু, সুমি এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজন ব্যক্তি সিভিল পোশাকে তার বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বাসার গেট খুলতে সামান্য দেরি হওয়ায় এসআই হানিফ দরজায় একাধিকবার লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতেও যদি বিচার না পাই তাহলে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির কাছে যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সার্বিক দিক খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলা লাইভ নিউজ সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং যেকোনো নতুন তথ্যের সাথে সাথে তাৎক্ষণিক আপডেট প্রকাশ করা হবে।
তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি ও বিশেষ প্রতিনিধি দল।
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।