বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: চিত্রনায়িকা পরীমনির গালিগালাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে পরিমনির পাশে দাঁড়িয়েছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •চিত্রনায়িকা পরীমনির গালিগালাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
  • •তবে পরিমনির পাশে দাঁড়িয়েছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
  • •শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন উল্লেখ করেন, ‘পরীমণি গালি দিয়েছে বলে দেশ তোলপাড়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন উল্লেখ করেন, ‘পরীমণি গালি দিয়েছে বলে দেশ তোলপাড়। পুরুষের মুখে যে গালি শুনতে শুনতে কারও ভ্রু কুঁচকায় না, নারীর মুখে সেই গালি শুনলেই আঁতকে ওঠে সবাই।

‘মেয়ে হয়েও এমন নোংরা কথা। ’ মেয়ে হলে কী করতে হবে। অপমান গিলে মুখে মধু মেখে বসে থাকতে হবে।

গালি দেওয়ার অধিকারও কি পুরুষের একার। ’ তিনি লেখেন, ‘পুরুষ শাসক বর্বর হতে পারে, নারী শাসকও পারে। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি।

পুরুষ নৃশংস হতে পারে, হত্যা করতে পারে, নারীও পারে। পুরুষ ষড়যন্ত্র করতে পারে, নারীও পারে। পুরুষ পরকীয়া করতে পারে, প্রতারণা করতে পারে, নারীও পারে।

মানুষের ভালো গুণগুলোর মতো খারাপ গুণগুলোও কোনও একটি লিঙ্গের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। নারী মানেই মমতাময়ী, সহনশীলা, পবিত্র, নিষ্পাপ —এই ছাঁচটিও পুরুষতন্ত্রের তৈরি– নারীর রাগ থাকবে না, ঘৃণা থাকবে না, মুখে কটু কথা থাকবে না– পুরুষ যা-ই করুক, নারীকে দেবী হয়ে থাকতে হবে।

’ ‘নারীকে সমান অধিকার পেতে হলে পুরুষের চেয়ে ভালো মানুষ হওয়ার পরীক্ষা দিতে হবে কেন। কোনও নারী অসভ্য হলে তার অসভ্যতার সমালোচনা করো।

‘মেয়ে হয়েও’ অসভ্য কেন, সেই প্রশ্ন তুলো না। নৃশংসতার বিচার করো নৃশংসতা হিসেবে, প্রতারণার বিচার করো প্রতারণা হিসেবে। নারী করেছে বলে বাড়তি অপরাধ, পুরুষ করেছে বলে সাত খুন মাফ —এই দ্বিচারিতা বন্ধ হোক।

সেই পার্থক্য কাউকে প্রভু, কাউকে দাসী বানানোর যুক্তি হতে পারে না। নারী আর পুরুষ সমান মর্যাদার মানুষ। অথচ রাষ্ট্র, সমাজ আর পরিবারের কত আইন, কত প্রথা এখনও পুরুষকে নারীর মাথার ওপর বসিয়ে রাখছে।

যোগ্যতা নেই, সততা নেই, মানবিকতা নেই —তবু শুধু পুরুষ বলে বাড়তি ক্ষমতা, বাড়তি স্বাধীনতা, বাড়তি ছাড়। পুরুষাঙ্গ থাকার সুবিধে ছাড়া এ আর কী।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]