বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: এলপিজির দাম টানা দুই মাসে দুই দফা বাড়ালেও বাজারে আসেনি শৃঙ্খলা। বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দাম মানছেন না বিভিন্ন পর্যায়ের বিক্রেতারা।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •এলপিজির দাম টানা দুই মাসে দুই দফা বাড়ালেও বাজারে আসেনি শৃঙ্খলা।
  • •বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দাম মানছেন না বিভিন্ন পর্যায়ের বিক্রেতারা।
  • •গ্রাহককে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

গ্রাহককে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। বিইআরসি বলছে, তিনটি কোম্পানির বেশি দামে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর দেশে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে নৈরাজ্য চলছে।

বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দাম না মেনে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দামে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। সংকটের অজুহাতে একপর্যায়ে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৭০০ টাকাও নেওয়া হয়।

এদিকে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি দরে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। তিন স্তরের ব্যবসায়ীদের কমিশনও বাড়ানো হয়।

তবু এলপি গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা নেই। আগের মতোই ১২ কেজির সিলিন্ডার খুচরায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অথচ চলতি নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সরকারনির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্য ২ হাজার ৬০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বিক্রেতা, এলপিজির গ্রাহক ও পরিবেশকরা জানায়, বাজারে এখনো এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকট রয়ে গেছে।

কোম্পানিগুলো কম সরবরাহ করছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে অনেক কোম্পানির এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না। এলপি গ্যাসের কথিত এই সংকট গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়।

তখন ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সর্বোচ্চ দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারে বিক্রি হয় ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। পরে অক্টোবরে বিইআরসি ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় নির্ধারণ করলেও বিক্রি হয় আগের দামেই।

কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকায়ও বিক্রির খবর আসে। পরে নভেম্বরে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু সেই দাম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। বনশ্রীর একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক উল্লেখ করেন, ‘সরকার যে দাম নির্ধারণ করে, সেটা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে।

আমরা আগের মতোই ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনছি। দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। আমাদের বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।

’ বাজারে এলপিজির সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির চিত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় বাড়তি এলপি গ্যাস আমদানি হয়েছে। গত আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন, সেপ্টেম্বরে এক লাখ ৫৮ হাজার টন এবং অক্টোবরেও প্রায় সমপরিমাণ এলপিজি আমদানি হয়েছে।

দেশে প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন। বাজারে কৃত্রিম সংকটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও দায়ীদের চিহ্নিত করা হয়নি।

বেশ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিইআরসিতে অভিযোগ জমা পড়লেও সেসব বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি কমিশন।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]