বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: ​রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন রাসেল।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন রাসেল।
  • •পরে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
  • •তার পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন।

পরে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুদক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে উল্লেখ করেন, ‘পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন।

একইসঙ্গে কারাগারে ডিভিশন চাওয়া হয়। পরে আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ’ এর আগে গত ১৩ অক্টোবর​ একই আদালত রাসেলসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন। ​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার, পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে জরিমানাও করা হয়। মামলার রায়ে আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায়তে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের উভয় ধারায় ৭ বছর করে ১৪ সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অন্যদিকে রাজউকের সাবেক ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের ৭ বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখা টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ​তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত সেক্টর-০১, রোড-৪০৫, প্লট নম্বর-০১১ ও ০১৩-এই দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত। প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেয়া ও নেয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরষ্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি সম্পন্ন হয়েছে।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]