বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতিগুলো এবার মানুষ-আতঙ্কে রয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের ফেসবুক পোস্টে দেখা যাচ্ছে অহেতুক হাতির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, আগুনের মশাল জ্বালিয়ে তাড়া এবং গহিন বনে বিশ্রামে থাকা হাতিকে মানুষ উৎপাত করছে।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতিগুলো এবার মানুষ-আতঙ্কে রয়েছে।
  • •ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত গ্রামগুলোয় দীর্ঘদিন থেকেই হাতি-মানুষের দ্ব›দ্ব চলে আসছে।
  • •এক্ষেত্রে মানুষও যেমন হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে, তেমনই মানুষও বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে হাতি হত্যা করে যাচ্ছে।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত গ্রামগুলোয় দীর্ঘদিন থেকেই হাতি-মানুষের দ্ব›দ্ব চলে আসছে। এক্ষেত্রে মানুষও যেমন হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে, তেমনই মানুষও বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে হাতি হত্যা করে যাচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুরে ৩০ বছরে মারা সম্পন্ন হয়েছে ৪৭টি হাতি এবং প্রাণ হারিয়েছে ৬৭ জন। সেই সঙ্গে শতাধিক মানুষ আহত এবং লাখ লাখ টাকার ফসলহানি ও ঘরবাড়ি বিনষ্ট সম্পন্ন হয়েছে।

তবুও কমছে না হাতি-মানুষের দ্ব›দ্ব। একসময় যেমন সীমন্তবাসী হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাত, এখন দিনে হাতি আক্রমণ করায় মানুষও উগ্র হয়ে উঠেছে।

মানুষের খেতখামার ও বাড়িঘরে হামলা না করলেও হাতির অবস্থান টের পেলেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা, আগুনের মশাল ও ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এতে হাতি এখন মানুষের আতঙ্কে রয়েছে।

স্থানীয় ইআরটি বা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা তুলে ধরেন, তারা দিনরাত সার্বক্ষণিক হাতির অবস্থানের খোঁজ নিয়ে সীমান্তবাসীকে সতর্ক করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি হাতিকে যেন মানুষ উত্ত্যক্ত না করতে পারে, সেজন্য হ্যান্ডমাইক দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জার আব্দুল করিম সাংবাদিকদের উল্লেখ করেন, দুই-তিন দিন ধরে এ এলাকায় হাতি অবস্থান করলেও শুক্রবার থেকে এগুলো পার্শ্ববর্তী দাওধরা এলাকায় চলে গেছে। হাতিকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক ইআরটি সদস্যদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি।

পরশু রাতেও বাতকুঁচি এলাকায় হাতির অবস্থানের খবর পেয়ে ওই এলাকার মানুষকে সতর্ক করা সম্পন্ন হয়েছে। তারপরও কিছু খারাপ প্রকৃতির মানুষ হাতির ওপর ধারালো দা-কাঁচি নিয়ে হামলা চালায়, যেটা খুবই মর্মান্তিক বিষয়।

সেজন্য আমরা থানায় জিডি করে রেখেছি, যদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় হাতিকে কেউ ধারালো অস্ত্রের আঘাত করেছে, সেক্ষেত্রে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া সম্প্রতি এই আসনের সংসদ-সদস্য ফাহিম চৌধুরী কর্তৃক নালিতাবাড়ী উপজেলা সীমান্ত এলাকায় ১৪টি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের এআই ক্যামেরা স্থাপন করা সম্পন্ন হয়েছে।

ফলে হাতির গতিবিধি লক্ষ করে সাধারণ মানুষও ওইসব স্থান এড়িয়ে চলাসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হচ্ছে। শেরপুর ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন সাংবাদিকদের উল্লেখ করেন, আমরা প্রতিনিয়ত হাতির বিচরণক্ষেত্রগুলোয় সশরীরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাতিকে উত্তপ্ত না করার অনুরোধ করে আসছি।

সম্প্রতি কয়েকদিনের ঘটনায় আমরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ কারণে অতি শীঘ্রই ইআরটির মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হবে।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]