বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ব্লকের রোববারের সমাবেশ একদিকে যেমন ছিল বিজেপি-বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ, অন্যদিকে শরিক দলগুলোর কাছে নিজস্ব রাজনৈতিক সমীকরণ সাজানোর একটা সুযোগ বলে অনেকে মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বিষয়ে একমত যে, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক বিরোধী দলগুলোকে ফের এক মঞ্চে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
- •রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বিষয়ে একমত যে, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক বিরোধী দলগুলোকে ফের এক মঞ্চে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
- •কিন্তু এই মঞ্চে বিশেষ নজর ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর।
- •পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে তার এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু এই মঞ্চে বিশেষ নজর ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে তার এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। রোববারের সমাবেশ থেকে বিজেপিকে বাংলা থেকে সরানোর ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট ব্যক্ত করেছেন, ‘আমরা হারিনি, জোর করে হারানো সম্পন্ন হয়েছে। বিজেপি বাংলাকে লুট করেছে। এদের ক্ষমতা থেকে সরাতেই হবে। ’ রাজধানী থেকে তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে একদিকে যেমন বিজেপি-বিরোধী মঞ্চকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে সচেষ্ট তিনি, তেমনই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী পরাজয়ের প্রশ্নকে জাতীয় বিরোধী রাজনীতির মঞ্চে তুলে ধরতেও সমানভাবে মরিয়া। প্রসঙ্গত, রোববারের সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্ণ সমর্থন থাকলেও কেউ উপস্থিত থাকবেন না তা আগেই জানিয়েছিলেন। তার আগে মমতা ব্যানার্জী সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অনেকে মনে করছেন, এটা নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না। দিল্লি-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরতি জেরথের কথায়, ‘বিরোধী নেত্রী হিসাবে মমতা নিজেকে বহু আগেই প্রমাণ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালীনও জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-নেত্রীর সঙ্গে নিজের সমীকরণ পৃথকভাবে বজায় রেখে এসেছেন। আবার বিভিন্ন সময়ে দুই দলের মধ্যে তিনি সংযোগ স্থাপনকারী সেতু হিসাবেও কাজ করেছেন। সেই পুরানো ভূমিকায় তাকে আবারও লক্ষ্য করা গেল। এটা বেশ উল্লেখযোগ্য বিষয়। ’ তবে রামলীলা ময়দানে আরও এক নেতা বেশ সক্রিয় ছিলেন। ‘রাহুল গান্ধী কিন্তু ধীরে ধীরে মঞ্চের সামনে চলে আসছেন। এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের ইস্যু নিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার পথে নামতে দেখা গিয়েছে এবং তার সাম্প্রতিক কর্মসূচি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তিনিও তার রাজনৈতিক কৌশল বদলাচ্ছেন। ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ হয়ে উঠতে চাইছেন,’ বলছেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তার মতে, ‘কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সম্পর্কের সমীকরণও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে সমীকরণ কোনদিকে যায় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।