বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: এমন সব দৃশ্যের দেখা কেবল মেলে হলিউডি সুপারহিরো সিনেমায়। বিরুদ্ধ পরিস্থিতিটা ক্রমেই আরও বিরুদ্ধে যাচ্ছে, একটু একটু করে ভেটো দিয়ে বসছে শরীরও, সব মিলিয়ে পা হড়কাতে হড়কাতে এমন জায়গায় নেমে যেতে হচ্ছে যেখান থেকে ফেরা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •এমন সব দৃশ্যের দেখা কেবল মেলে হলিউডি সুপারহিরো সিনেমায়।
  • •বিরুদ্ধ পরিস্থিতিটা ক্রমেই আরও বিরুদ্ধে যাচ্ছে, একটু একটু করে ভেটো দিয়ে বসছে শরীরও, সব মিলিয়ে পা হড়কাতে হড়কাতে এমন জায়গায় নেমে যেতে হচ্ছে যেখান থেকে ফেরা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
  • •ঠিক তখনই সুপারহিরো সত্তাটির মাথা তুলে দাঁড়ানোর শুরু।

ঠিক তখনই সুপারহিরো সত্তাটির মাথা তুলে দাঁড়ানোর শুরু। প্রায় ‘অসম্ভব’ পরিস্থিতি থেকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে শেষমেশ বিজয়ীর হাসি হাসা… এসব তো কেবল সিনেমার পর্দাতেই দেখা যায়। এমনটি ভেবে থাকলে ভুল করবেন।

কখনো সখনো বাস্তবের দুনিয়াতেও নেমে আসেন ‘সুপারহিরো’, যখন নেমে আসেন, তখন তারা ছাপিয়ে যান পর্দার সুপারহিরোদেরও। ২০২৩ সালে এমনই এক নভেম্বরের রাতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেমে এসেছিলেন তেমনই এক সুপারহিরো, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

তারও বহু আগে থেকে সুপারহিরো তকমাটা ছিল তার নামের পাশে। তার বিগ ব্যাশ দল মেলবোর্ন রেনেগেডস খেলে ‘মারভেল স্টেডিয়ামে’। সেখানে মারভেল সুপারহিরোর মতো করেই পারফর্ম করতেন তিনি; অভিকর্ষকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ নিতেন, লেট মিডল অর্ডারে তুলতেন ঝড়।

তবে তিনি যে সুপারহিরো, তার প্রমাণটা আসলে দিয়েছিলেন বছর তিনেক আগে, রিসিভিং এন্ডে থেকে তা টের পেয়েছিল আফগানিস্তান, প্রত্যক্ষ করেছিল গোটা বিশ্ব। তিনি যখন উইকেটে এলেন, তখন অস্ট্রেলিয়া ধুঁকছে।

২৯১ রান তাড়া করতে নেমে ৪৯ রান তুলতেই খুইয়ে বসেছে ৪ উইকেট। সে ম্যাচের আগেও অজিদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি। ম্যাচটা হেরে গেলে বসে থাকতে হতো শেষ ম্যাচের অপেক্ষায়।

কে জানে বাংলাদেশ কোনো আপসেট ঘটিয়ে বসত কি না তখন। অজিরা এমন হিসাবনিকাশের অপেক্ষায় থাকতে পছন্দ করে না, অন্তত ক্রিকেটে। কিন্তু সেটাও সে রাতে এভারেস্টসম কিছুতে পরিণত হয়েছিল রীতিমতো।

ম্যাক্সওয়েল মাঠে এসে একে একে আরও ৩ সঙ্গীকে সাজঘরমুখো হতে দেখলেন। ৯১ রানে ৭ উইকেট তুলে আফগানিস্তান তখন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ চারে খেলার স্বপ্নে বিভোর।

‘বিগ শো’ তার ‘শো’র শুরু করলেন ঠিক তখন। ২৪ আর ৩৩ রানে দুবার ‘জীবন’ পেলেন। ‘ম্যাড ম্যাক্স ফিউরি’ শুরু হলো তার একটু পরে।

ওপাশে তার সঙ্গী হিসেবে আছেন প্যাট কামিন্স, গোটা ক্যারিয়ারে যার একটিও ফিফটি নেই। তাকে নিয়ে তুলতে হতো ঠিক ২০১ রান। পালটা আক্রমণের শুরুটা করলেন ঠিক তখন।

যা করার তাকেই করতে হতো। একের পর এক চার আর ছক্কায় তাই করা শুরু করলেন। তবে পথটা যদি এত মসৃণ হতো, তাহলে হয়তো এত কথা হতো না।

দলীয় ১৯১ রানে তার ক্র্যাম্প ধরা পড়ল। জয় থেকে যখন ৭৫ রানের দূরত্বে অস্ট্রেলিয়া, তখন বাম পা টা নাড়াতেই পারছেন না আর।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]