বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার দেখে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত সম্পন্ন হয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তরুণের সেই উল্লাস তাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে তিনি তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন।
- •স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার দেখে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত সম্পন্ন হয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ।
- •তরুণের সেই উল্লাস তাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে তিনি তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন।
- •এই প্রশ্নটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এটি কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ। এই প্রশ্নটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে।
পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫%-এরও বেশি।
শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে, তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না। শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের, যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে।
এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট-এর পথ খুলে দেয়।
তিনি আরো লিখেছেন, জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম-প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না।
বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে।
দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না। শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে। এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি, যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে। এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই।
এরপরও তারুণ্যকে তিনি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান নিশ্চিত করেছেন। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না।
নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে। এই প্রশ্নটি তিনি তরুণদের কাছে রেখেছেন।
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।