বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: বাইন্যান্সের ক্রিপ্টো চুরির জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী বললেন এফবিআই-কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির দাবি, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এ চুরির সঙ্গে জড়িত।

এদিকে চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে নিজেদের অর্থে পুনরায় কিনে গ্রাহকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীরা চুরি করা সম্পদ পাচারের চেষ্টা করছে। এ জন্য তারা প্রধানত ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থাটি এ সাইবার হামলার জন্য বিশেষভাবে ‘ট্রেডারট্রেইটার’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাতেও একই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা সম্পন্ন হয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদগুলো কয়েক ধাপে আরও পাচার করা হতে পারে। এ অবস্থায় ভার্চুয়াল সম্পদ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নজরদারির জন্য সন্দেহভাজন ডিজিটাল ঠিকানাগুলোও প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, শনিবার পৃথক এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে নতুন টোকেন কিনে ঘাটতি পূরণ করা সম্পন্ন হয়েছে। কোম্পানির নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করেই এসব টোকেন কেনা সম্পন্ন হয়েছে। বাইন্যান্স জানায়, বাকি ১০ শতাংশ সম্পদ তুলনামূলক কম তারল্যসম্পন্ন টোকেনের। ফলে এগুলো পুনরায় কিনতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সব টোকেনের ক্ষেত্রে ঘাটতি ১০০ শতাংশ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাকি সম্পদ কেনা অব্যাহত থাকবে। চুরি হওয়া অর্থের আর্থিক ক্ষতি বাইন্যান্স বহন করবে, গ্রাহকদের নয়। চুরি হওয়া সম্পদের সমপরিমাণ টোকেন কিনতে বাইন্যান্সের ১০০ কোটি ডলারের ‘সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজার্স’ (সাফু) ব্যবহার করা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বিটকয়েন রিজার্ভ তহবিল গঠন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ফিউচার্স ইন্স্যুরেন্স ফান্ডের একটি অংশ এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকেও অর্থ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ থাকার আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও শুক্রবার ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারদরে পতন ঘটে।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]