বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।
- •ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।
- •ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।
- •চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনীতিতে আসা এই নেতা এখন দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন।
চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনীতিতে আসা এই নেতা এখন দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে।
৬৬ বছর বয়সি আইজেনকোট ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব জেনারেল স্টাফ। তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির সেনাপ্রধান ছিলেন।
বর্তমানে তিনি ‘ইয়াশার’ দলের নেতা। গত ৭ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। এ জন্য তিনি প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পেয়েছেন; প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
গাদি আইজেনকটের জন্ম ১৯৬০ সালে। তার বাবা-মা মরক্কো থেকে ইসরাইলে আসেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলের তিবেরিয়াস ও দক্ষিণের ইলাত শহরে বেড়ে ওঠা আইজেনকট ১৯৭৮ সালে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলানি পদাতিক ব্রিগেডে যোগ দেন।
সামরিক জীবনে তিনি ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গোলানি ব্রিগেডে কমান্ডার হিসেবে কাজ করার পর তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব, অপারেশন বিভাগ এবং উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্ব দেন।
পরে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হন। ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি আইডিএফের ২১তম চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে চার দশকের সামরিক জীবনের ইতি টানেন তিনি।
সেনাপ্রধান থাকাকালে আইজেনকোট সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য আলোচনায় আসেন। ২০১৬ সালে হেবরনে এক আহত ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি সেনা এলোর আজারিয়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়।
ওই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও আইজেনকোট সামরিক তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। ২০২২ সালে তিনি বেনি গান্টজের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারে যোগ দেন। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালের জুনে গান্টজের সঙ্গে সরকার ছাড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরও সরব হন আইজেনকোট।
তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু যুদ্ধের পরবর্তী পরিকল্পনা স্পষ্ট করছেন না এবং রাজনৈতিক স্বার্থে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল ইয়াশার প্রতিষ্ঠা করেন।
গাজা যুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষতি গাজা যুদ্ধ আইজেনকোটের পরিবারেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে তার ২৫ বছর বয়সি ছেলে গাল মেইর আইজেনকোট নিহত হন।
একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।