বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: উদ্ধার করা ৫ চোরাই গরু নিয়ে বিপাকে পুলিশ, জন্ম নিয়েছে বাছুরও নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৫টি চোরাই গরুর লালন-পালন ও আইনি জটিলতা নিয়ে চরম বিপাকে দেখা দিয়েছেন থানা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে আদালতের আদেশের মারপ্যাঁচে নিলাম প্রক্রিয়া বারবার স্থগিত হওয়ায় থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে আদালতের আদেশের মারপ্যাঁচে নিলাম প্রক্রিয়া বারবার স্থগিত হওয়ায় থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
  • •এর মধ্যে থানায় আনার পর একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম নেওয়ায় বর্তমানে মোট গরুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে।
  • •গত ১৫ জুলাই ভোরে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত গরু চোর অসিতকে আটক করে পুলিশ।

এর মধ্যে থানায় আনার পর একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম নেওয়ায় বর্তমানে মোট গরুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। গত ১৫ জুলাই ভোরে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত গরু চোর অসিতকে আটক করে পুলিশ।

পরে তার গোয়ালঘর থেকে চোরাই ৫টি গরু উদ্ধার করা হয়। প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানা প্রাঙ্গণে রেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পর্যবেক্ষণে গরুগুলোর লালন-পালন শুরু হয়।

পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট নওগাঁর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত-১ এর কার্যালয় থেকে গরুগুলো প্রকাশ্যে বিক্রির প্রথম নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু নিলামের ঠিক আগের দিন অসিতের স্ত্রী পপি রাণী গরুগুলোর মালিকানা দাবি করে আইনি আশ্রয় নিলে আদালত নিলাম আদেশ বাতিল করেন।

এরপর অভিযোগ তদন্ত শেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত দ্বিতীয় দফায় পুনরায় নিলামের আদেশ দেন। তবে পপি রাণী উচ্চ আদালতে আপিল করায় সেই নিলাম কার্যক্রমও আবারও স্থগিত হয়ে যায়।

আদালতের এই দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার কারণে গরুর দেখভাল করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দেখা দিয়েছে। এদিকে থানা প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে গরু লালন-পালন করায় এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে জনসেবায়।

রাণীনগর বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল গণি উল্লেখ করেন, বর্তমানে রাণীনগর থানা একটি গরুর খামারে রূপ নিয়েছে। থানা চত্বরে প্রবেশমুখেই গরুগুলো থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

যেখানে একটি গরু লালন-পালন করা কষ্টকর, সেখানে থানা চত্বরে আকস্মিক ৬টি গরুর দেখভাল করা পুলিশ সদস্যদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরাই মাল উদ্ধার করে পুলিশ যদি এমন বিড়ম্বনার শিকার হয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমে তারা আগ্রহ হারাতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বদলে যেতে পারে হাইমচরের ঈশানবালা, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সেবাগ্রহীতারা মনে করেন, থানার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আইনি জটিলতা নিরসন করে দ্রুত নিলামের মাধ্যমে গরুগুলো বিক্রি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল এশিয়া পোস্টকে তুলে ধরেন, শুরু থেকেই একজন ব্যক্তিকে সম্মানী দেওয়ার শর্তে গরুগুলোর দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।

কিন্তু অতিরিক্ত সময় ধরে দায়িত্ব পালন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাবার ও পরিচর্যার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া থানায় নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় গাড়ি রাখার শেডে গরুগুলো রাখতে হচ্ছে।

ওসি আরও তুলে ধরেন, আটক চোরেরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে যে তারা বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা গরু অসিতের বাড়িতে মজুত করে রাখতো। অথচ অসিতের স্ত্রী অযথা আইনি জটিলতা তৈরি করে নিলাম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছেন।

খুব দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]