বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: বরিশাল মহাশ্মশানে দীপাবলি উৎসব, প্রদীপের আলোয় স্মরণ প্রয়াত স্বজনদের মোমবাতি আর প্রদীপের আলোয় আলোকিত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশান। ফুলে ফুলে সাজানো সম্পন্ন হয়েছে প্রয়াত স্বজনদের সমাধি।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •বরিশাল মহাশ্মশানে দীপাবলি উৎসব, প্রদীপের আলোয় স্মরণ প্রয়াত স্বজনদের মোমবাতি আর প্রদীপের আলোয় আলোকিত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশান।
  • •ফুলে ফুলে সাজানো সম্পন্ন হয়েছে প্রয়াত স্বজনদের সমাধি।
  • •কোথাও চলছে প্রার্থনা, কোথাও নামকীর্তন।

কোথাও চলছে প্রার্থনা, কোথাও নামকীর্তন। আবার কোথাও প্রিয়জনের সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে স্মৃতিচারণ করছেন স্বজনেরা। পূর্বপুরুষ ও প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও বরিশালে অনুষ্ঠিত সম্পন্ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্মশান দীপাবলি উৎসব।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর কাউনিয়া এলাকার বরিশাল মহাশ্মশানে শুরু হয় এ উৎসব। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত চলে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

এতে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন হাজারো মানুষ। প্রায় ছয় একর জমির ওপর বিস্তৃত পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজার এলাকার এই মহাশ্মশান।

প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো এই শ্মশানে রয়েছে ৭০ হাজারের বেশি মঠ। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, নগরীর পত্তনেরও আগে ধনাঢ্য জমিদারদের আর্থিক সহায়তায় নতুন বাজার এলাকায় মহাশ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরে জায়গার সংকট দেখা দিলে পাশের কাউনিয়া এলাকায় নতুন করে শ্মশান প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯২৭ সাল থেকে এখানে উদযাপিত হয়ে আসছে শ্মশান দীপাবলি।

কালীপূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে প্রতিবছর এ আয়োজন করা হয়। এদিন প্রয়াত স্বজনদের সমাধিতে প্রদীপ, মোমবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা তুলে ধরেন স্বজনেরা।

ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলেন সমাধি। কেউ কেউ নিয়ে আসেন প্রয়াত ব্যক্তির জীবদ্দশায় পছন্দের খাবার। ইলিশ মাছ, পায়েসসহ নানা খাবার নিবেদন করেন সমাধিতে।

ধর্মীয় প্রার্থনা ও নামকীর্তনের পাশাপাশি অনেককে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে কেউ স্মৃতিচারণ করেন, কেউ নীরবে প্রার্থনা করেন প্রিয়জনের আত্মার শান্তি কামনায়।

ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকেও বরিশাল মহাশ্মশানের রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। এছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, কালিচন্দ্র ঘোষ ও মনোরমা বসু মাসিমাসহ বিভিন্ন সময়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন সম্পন্ন হয়েছে এখানে।

মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর ২০১২ সালে ভারতের কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে তাঁর চিতাভস্ম এনে এখানে স্থাপন করা হয়। মেহেরপুরে দুই ভাগে বিএনপির ৭ নভেম্বর পালন, পৃথক সমাবেশ ও র‍্যালি উৎসবে আসা জয়দেব সাহা উল্লেখ করেন, প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতিবছর এখানে আসেন তারা।

জীবিত অবস্থায় প্রিয়জন যেসব খাবার পছন্দ করতেন, সেসব খাবারও সমাধিতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এরপর প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন। উজ্জ্বল দাস উল্লেখ করেন, দীপাবলি উৎসবের আগে মৃত স্বজনের সমাধি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে রং করিয়েছেন।

অনেক সমাধিতে স্বজনেরা আসেন না। সেসব সমাধিতেও মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা তুলে ধরেন তিনি। পূর্বপুরুষদের স্মরণে প্রতিবছরই এখানে আসেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]