বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সব সময়ই বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
- •মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- •যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সব সময়ই বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
- •তবে সাম্প্রতিক স্মৃতিতে এবারই প্রথম দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে এতটা আন্তর্জাতিক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক স্মৃতিতে এবারই প্রথম দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে এতটা আন্তর্জাতিক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়েছে। এর প্রধান কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুই বছরেরও কম সময় আগে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে তার কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকেই অস্থির করেনি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক ব্যবস্থাকেও ভেঙে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তৈরি সম্পন্ন হয়েছে অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ।
তাই মঙ্গলবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় পরাজয়ে দেশে-বিদেশে তার সমালোচকদের স্বস্তি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ অস্বাভাবিক নয়। নির্বাচনি জরিপে ধারণা করা হয়েছিল, রিপাবলিকান পার্টি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাবে।
সব ভোট গণনা শেষে জনপ্রিয় ভোটে ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৩ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে রিপাবলিকানদের পরাজয় ১৯৭৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেস নির্বাচনে দলটির সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হতে যাচ্ছে।
ওই নির্বাচন হয়েছিল প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরপরই। ডেমোক্র্যাটদের কিছু সাফল্য সত্যিই বিস্ময়কর। প্রায় ১০০ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন জিতেছে দলটি।
সর্বশেষ ১৯৩২ সালে রাজ্যটি থেকে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত সম্পন্ন হয়েছেন।
আর দলটির আরেক প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর সম্পন্ন হয়েছেন। প্রচারণার সময় বারবার ভোটারদের কাছে নিজেকে ব্যালটে থাকা প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচনকে নিজের ওপর গণভোটে পরিণত করেছিলেন।
ভোটাররা কার্যত সেটিই করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীরা ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও তাতে কাজ হয়নি। এমনকি মেইনের অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সও রক্ষা পাননি।
ডেমোক্র্যাটরা ৩০ বছর ধরে তাকে পরাজিত করার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। এবার অবশ্য দলটির প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন তাকে হারিয়েছেন। জ্যাকসন সাবেক অঙ্গরাজ্য আইনপ্রণেতা।
কয়েক মাস আগে ডেমোক্র্যাটদের পছন্দের প্রার্থী কেলেঙ্কারির কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এত কিছুর পরও জয় পেয়েছেন তিনি।
তবে অনুতপ্ত হওয়ার বদলে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্যালটে তার নাম না থাকায় রিপাবলিকানরা হেরেছে। ট্রাম্পের সবচেয়ে অপমানজনক পরাজয়গুলোর একটি এসেছে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে।
সিনেট আসনে স্থানীয় রিপাবলিকান নেতাদের আপত্তি উপেক্ষা করে ট্রাম্প কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে প্রার্থী হিসেবে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্যাক্সটন পরাজিত সম্পন্ন হয়েছেন।
একই সঙ্গে হেরেছেন বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও। হিস্পানিক প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে পরাজিত সম্পন্ন হয়েছেন তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা রিপাবলিকান গভর্নর অ্যাবট।
ক্যালিফোর্নিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস টেক্সাসে। তাদের মধ্যে অ্যাবট ছিলেন অজনপ্রিয়। চলতি বছরের শুরুতে তিনি নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন স্থগিত করেছিলেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ভারতীয়দের ওপর।
ফলে টেক্সাসে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভারতীয় ভোটারদেরও আংশিক ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।