বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম জেরুজালেমে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ। ইসরাইলে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ এক জটিল পরিস্থিতির মুখে দেখা দিয়েছেন।
- •পশ্চিম জেরুজালেমে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ।
- •ইসরাইলে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ এক জটিল পরিস্থিতির মুখে দেখা দিয়েছেন।
- •কে সরকার গঠনের জন্য প্রথম সুযোগ পাবেন, রোববার (৮ নভেম্বর) সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
কে সরকার গঠনের জন্য প্রথম সুযোগ পাবেন, রোববার (৮ নভেম্বর) সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—উভয় নেতাই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ সম্পন্ন হয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের দপ্তরে দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক পরামর্শ সভা শেষে পরিলক্ষিত হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) গাদি আইজেনকোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৬ জনের।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোটের হাতে ৫৩টি আসন থাকার কথা থাকলেও, অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ অব্যাহতি সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে তার দীর্ঘদিনের মিত্র ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ দল তাকে শেষ মুহূর্তে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকে। আইজেনকোট ৬৭ জনের সমর্থন পেলেও তার এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর ভোট, যারা গত অক্টোবরের নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন জিতেছিল।
তবে আইজেনকোট আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই আরব দলগুলোকে তিনি সরাসরি নিজের সরকারে অংশীদার করবেন না। ইসরাইলে সরকার গঠন করতে হলে সর্বনিম্ন ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়।
আইজেনকোট যদি ফিলিস্তিনি দলগুলোকে সরকারে না রাখেন, তবে তাকে অতি-গোঁড়া দলগুলোকে রাজি করিয়ে ৬১ আসনের কোটা পূরণ করতে হবে। পক্ষান্তরে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে বিরোধী শিবিরের কোনো দলকে নিজের পক্ষে টানতে হবে অথবা আইজেনকোটের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে হবে, যা বিরোধীরা ইতিমধ্যেই নাকচ করে দিয়েছেন।
নির্বাচনে আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাম’ মূলত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই আইজেনকোটকে সমর্থন দিয়েছে। রাম দল সরকারে যোগ দিতে ইচ্ছুক হলেও জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছে।
তবে আইজেনকোটের শর্ত হলো—ফিলিস্তিনি দলগুলোকে সমর্থন দিতে হলে হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফিলিস্তিনি দলগুলোর নেতারা বলছেন, নেতানিয়াহুর মতো উগ্র ডানপন্থী সরকারের পতন ঘটানো এবং দেশের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বাড়িঘর ধ্বংস বন্ধ ও অপরাধ দমনের মতো মৌলিক অধিকার রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, তিনি প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে তা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। এভাবে নির্ধারিত ধাপগুলোতে একের পর এক মনোনীত প্রার্থী ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কোনো সরকার গঠিত না হওয়া এবং নতুন নির্বাচন দেওয়াটাই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে পছন্দের কৌশল, কারণ এতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন।
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।