বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাদের অনুকূলে বিপুল অঙ্কের ঋণসুবিধা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। পরে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ভুয়া অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাদের অনুকূলে বিপুল অঙ্কের ঋণসুবিধা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়।
  • •পরে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ভুয়া অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
  • •এভাবে ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেনের চিত্র দেখিয়ে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করা সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

এভাবে ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেনের চিত্র দেখিয়ে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করা সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। দুদকের নথি অনুযায়ী, তিন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের মোট পরিমাণ ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৪ টাকা ৯০ পয়সা। এর মধ্যে স্পিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার ১৭১ টাকা ২৫ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা সম্পন্ন হয়েছে।

এ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনকে আসামি করা সম্পন্ন হয়েছে। আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলার অনুমোদন দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ মামলাতেও সালমান এফ রহমানসহ ২২ জন আসামি। অন্যদিকে, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা ৬০ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তৃতীয় মামলাটি করা হচ্ছে। এ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনকে আসামি করা সম্পন্ন হয়েছে। তিন মামলার আসামিদের মধ্যে সালমান এফ রহমান ছাড়াও রয়েছেন এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, মিজানুর রহমান ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ছাড়া পৃথক মামলায় আরও যাঁদের আসামি করা সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহাইমিনুল ইসলাম, কোহিনুর আবেদিন, হেলাল উদ্দিন, সাহিদা রহমান, আবদুল জব্বার, ইসমাইল হোসেন, মো. শহিদুল হক, মো. হুমায়ুন কবির টালী, মো. আবদুর রহিম, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. সালেহ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম ও এম এম মাহাতাব হোসাইন বাদশা। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারস্পরিক যোগসাজশে এসব ঋণসুবিধা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। এতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগে বলা সম্পন্ন হয়েছে, ভুয়া আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের নামে স্থানান্তর করা হয়। নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে—এমন কৃত্রিম চিত্র তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। মামলাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ ও ১০৯ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]