ভারত থেকে পুশইন হয়ে পঞ্চগড় শহরে আসার পর বাসে করে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন নারীসহ ছয়জন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে শহরের শেরে বাংলা পার্কসংলগ্ন একটি বাস কাউন্টার থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী। তারা সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার বাসিন্দা। আটক ব্যক্তিরা হলেন- সুনামগঞ্জের বাচ্চু মিয়া (৬০), তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৫৫), মেয়ে দিলারা বেগম (২৮), সুমন (২০), সজিব মিয়া (১৯) এবং সিলেটের মফিজ আলী (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ওই ছয়জন পঞ্চগড় শহরে আসেন। পরে তারা বাসে করে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। সেখানে কাউন্টারকর্মীদের কাছে তারা জানান, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।
বিষয়টি জানার পর কাউন্টার কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তিদের ভাষ্য, তারা গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে দিনমজুরিসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছিলেন। গত ৪ এপ্রিল স্থানীয় ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে আটকাদেশ বা সাজা ভোগ শেষে সোমবার বিকেলে তাদেরসহ প্রায় ১৫০ জনকে কাশ্মীর থেকে বিমানে করে ভারতের বাগডোগরা বিমানবন্দরে আনা হয়।
তাদের দাবি, এরপর বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার গভীর রাতে পঞ্চগড়ের একটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। পরে তারা পঞ্চগড় শহরে এসে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট কাটতে যান। তবে তারা কোন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার রয়েছে। তবে পঞ্চগড় শহর থেকে পুশইন হওয়া ছয়জনকে আটকের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) অশীষ কুমার শীল বলেন, খবর পেয়ে বাস কাউন্টার থেকে ছয়জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের পারিবারিক ও স্থায়ী ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নুর হাসান/এসএইচএ
পাঠকের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যআপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানাটি গোপন রাখা হবে। তারকা চিহ্নিত (*) ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক।