বাংলা লাইভ নিউজ ডেস্ক: ক্যাডেট কলেজের ধাঁচে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি দৃষ্টিনন্দন মডেল স্কুল ও কলেজ গড়ে তোলার এক বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ভাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য আলাদা দুটি সম্পূর্ণ আবাসিক সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তোলা হবে।

📌 এক নজরে মূল বিষয়:
  • •ক্যাডেট কলেজের ধাঁচে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি দৃষ্টিনন্দন মডেল স্কুল ও কলেজ গড়ে তোলার এক বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
  • •ভাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য আলাদা দুটি সম্পূর্ণ আবাসিক সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তোলা হবে।
  • •প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) বেশ আগেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও বিপুল অঙ্কের বাজেটের এই প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখেনি।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে থাকবে থাকার বন্দোবস্ত, খেলাধুলা, সাঁতার শেখা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের দারুণ সব সুযোগ। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) বেশ আগেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও বিপুল অঙ্কের বাজেটের এই প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখেনি।

মূলত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এই মেগা প্রকল্পের মোট খরচের ৭০ শতাংশ বিদেশি সাহায্য থেকে আনার পরিকল্পনা করা হলেও সেই অর্থায়নের পথ এখনো পরিষ্কার নয়। এর ওপর ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় জমি জোগাড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং ভবিষ্যতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন খরচ কীভাবে আসবে—সেসব জটিল বিষয়েও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা তৈরি করা হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২০ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশ এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৪৭ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বা ৭০ শতাংশ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কোরিয়ার ইডিসিএফ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীর কাছে সম্ভাব্য অর্থায়নের কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনো সংস্থার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি এখনো নিশ্চিত নয়।

প্রকল্পের মোট ব্যয়কে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ভাগ করলে প্রতিটি স্কুল নির্মাণে গড় ব্যয় দাঁড়ায় ১১৪ কোটি টাকা। তবে এটি শুধু প্রকল্পের প্রস্তাবিত মূলধনী ব্যয়ের হিসাব।

প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে একটি বালক ও একটি বালিকা স্কুল নির্মাণ করা হবে। এই হিসাবে ৩০০টি বালক এবং ৩০০টি বালিকা স্কুল মিলিয়ে মোট প্রতিষ্ঠান হবে ৬০০টি।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনুমানিক তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে জমির প্রয়োজন দাঁড়াবে প্রায় এক হাজার ৮০০ একর। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে জমির প্রাপ্যতা, স্থান নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করার কথা রয়েছে।

সংসদীয় আসনভিত্তিক সমানসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কোনো এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি, জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে স্থান নির্বাচন কিভাবে হবে, তা প্রস্তাবে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে।

একটি প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে। প্রতি শ্রেণিতে তিন থেকে চারটি শাখা এবং প্রতিটি শাখায় ৩৮ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেই হিসাবে ৬০০ প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ছয় লাখ।

[সম্পাদকীয় নোট: বাংলা লাইভ নিউজ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পরিবেশন করে। যেকোনো নতুন তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে।]