চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা জানিয়েছেন, নিজেদের সত্যিকারের ক্ষমতা প্রমাণের জন্য সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর নেই তার দলের জন্য। ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতায় ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে এটি সিটির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের ১৫তম মুখোমুখি। স্প্যানিশ রাজধানীতে আগের সফরগুলোতে বেশ দাপট দেখালেও, গত চারবার বার্নাব্যুতে এসে জয়হীন রয়েছেন গার্দিওলা, যেখানে তার রেকর্ড ২ ড্র ও ২ হার। গত মৌসুমে প্লে-অফ রাউন্ডে ৬-৩ অ্যাগ্রিগেটে রিয়ালের কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল সিটিকে।

গার্দিওলা এবার সেই খরা কাটাতে চাইছেন। সিটি কোচের বিশ্বাস, ঐতিহাসিক বার্নাব্যুই নতুন প্রজন্মের সিটিজেনদের নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর আদর্শ স্থান। তার মতে, এই মাঠ তার দলকে নতুন করে জ্বলে ওঠার অনুপ্রেরণা দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নেই, যেমন কেভিন ডি ব্রুইনে, কাইল ওয়াকার, ইলকাই গুন্ডোগান ও জন স্টোনস।’

এ ম্যাচে গার্দিওলা মুখোমুখি হবেন তার পুরোনো ছাত্র জাবি আলোনসোর, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। ২০১৪-১৬ সালে বায়ার্ন মিউনিখে গার্দিওলার অধীনে ৭৯ ম্যাচ খেলেছেন আলোনসো। তবে ম্যাচের আগের আলোচনায় উঠে এসেছে আলোনসোর ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে গত সপ্তাহে সেল্টা ভিগোর কাছে ২-০ গোলে হারার পর তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন। গার্দিওলা বলেন, ‘ওদের মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই। অবশ্যই আলোনসোর প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। আমরা দুই বছর একসঙ্গে কাজ করেছি, যা ছিল অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’

চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে চারটি জিতেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), একমাত্র হোঁচটটা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। বড় বড় ব্যবধানে জয়ের পরও ইউরোপসেরা দলের পথচলা ততটা মসৃণ নয়, টটেনহামের মাঠে তো পিছিয়ে থেকেও ৫-৩ ব্যবধানে জিততে হয়েছিল তাদের। অপটা সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, এবার শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে তৃতীয় পছন্দ পিএসজি।

এই পরিস্থিতিতে আজ রাতে (১০ ডিসেম্বর) অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে নামার আগে দলকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোচ লুইস এনরিকে। তিনি বলেন, ‘এবার সবাই আমাদের বিপক্ষে আরো বেশি উজ্জীবিত। আমাদের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। ম্যাচটি আগেই জিতে রেখেছি—এমন ভাবনা নিয়ে মাঠে নামা চলবে না।’ অ্যাথলেটিককে ‘ক্যামেলিয়ন’ আখ্যা দিয়ে এনরিকে বলেন, ‘ওদের খেলার গতি খুবই শারীরিক ও টেকনিক্যাল। দারুণ সমন্বয় আছে দল আর সমর্থকদের মধ্যে। তরুণরা খুব দ্রুত ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে।’

২০১১-১২ মৌসুমে ইউরোপা লিগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, সেবার ঘরের মাঠে দুই দলই জিতেছিল। তবে ইতিহাসের আরেক পাশে পিএসজি দেখাচ্ছে আধিপত্য, শুধু ২০২৫ সালেই চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৩টি জয় পেয়েছে ক্লাবটি। চলতি মৌসুমেও দলটি সর্বোচ্চ ১৯ গোল এবং ১০২টি শট নিয়ে এগিয়ে আছে। দলে চোট কাটিয়ে ফেরায় বাড়তি স্বস্তি যোগ করেছে দেজিরে দুয়ে, তাকে মাঠে পাওয়ার আশা করছেন এনরিকে। তিনি বলেন, ‘দুয়ে ফিরেছে, এই সপ্তাহে ওকে বেশ ভালোই দেখেছি। আশা করি খেলতে পারবে, কিন্তু কতক্ষণ, সেটা ম্যাচ দেখেই ঠিক করব।’ পিএসজি কোচের সতর্কবার্তা দেখেই ধারণা করা যায়, সান মামেসে কঠিন পরীক্ষার সামনে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।

দ্য গ্যাবায় অ্যাশেজ ২০২৫-২৬ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে জো রুটের দুর্দান্ত অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস শুধু ইংল্যান্ডকেই স্বস্তি দেয়নি, রক্ষা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ওপেনার ম্যাথিউ হেইডেনকেও। সিরিজ শুরুর আগে রুট যদি অস্ট্রেলিয়ায় এই অ্যাশেজে একটি সেঞ্চুরিও করতে না পারেন, তাহলে এমসিজিতে নগ্ন হয়ে দৌড়াবেন বলে রসিকতা করেছিলেন হেইডেন। রুটের শতক হেইডেনকে সেই ‘অস্বস্তিকর’ প্রতিশ্রুতি থেকে মুক্তি দেয়। হেইডেনের মেয়ে ও ক্রিকেট প্রেজেন্টার গ্রেস হেইডেন রুটের সেঞ্চুরির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরসে মাতেন, তার এই প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আবেদন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফেয়ারস্কোয়ার। ওয়াশিংটন ডিসিতে গত সপ্তাহে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে এই পুরস্কার তুলে দেন ইনফান্তিনো।

ফেয়ারস্কোয়ারের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার পর বিবিসি জানিয়েছে, চিঠিতে ইনফান্তিনো ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার চারটি সুস্পষ্ট নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘একজন বর্তমান রাজনৈতিক নেতাকে এমন ধরনের পুরস্কার দেওয়া ফিফার নিরপেক্ষতার দায়িত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘ফিফা সভাপতি এককভাবে সংস্থার নীতি, মূল্যবোধ বা কৌশলগত দিক নির্ধারণের অধিকার রাখেন না।’ বিষয়টি নিয়ে ফিফার পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য সেই অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্প ছিলেন পাশাপাশি। একটি বড় স্বর্ণমণ্ডিত ট্রফির সঙ্গে ট্রাম্পকে একটি মেডেল ও সনদও দেন ইনফান্তিনো। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নেতার কাছ থেকে আমরা এমনটাই আশা করি।’ ঘটনা এখানেই শেষ নয়, গত অক্টোবরে ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ট্রাম্প ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য’। নভেম্বরে মায়ামিতে আমেরিকান বিজনেস ফোরামের এক আলাপচারিতায় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবার ট্রাম্পকে সমর্থন করা উচিত, কারণ তিনি যা করছেন, তা বেশ ভালোই দেখাচ্ছে।’

ফেয়ারস্কোয়ার আরো অভিযোগ তুলেছে, জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ইনফান্তিনোর পোস্ট করা একটি ভিডিও ‘ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রতি সরাসরি সমর্থন’ দেখায়। সংগঠনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নিকোলাস ম্যাকগীহান বলেন, ‘এ অভিযোগ শুধু ট্রাম্পকে সমর্থন করা নিয়ে নয়।’

ভারতের পেস তারকা জাসপ্রিত বুমরাহ আবারও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন। মঙ্গলবার কোটাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১০০তম উইকেট শিকার করেন। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে আউট করেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেন বুমরাহ। বুমরাহর এই কীর্তি ছুঁতে লেগেছে ৮১ ম্যাচ। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০ উইকেটের ক্লাবে বুমরাহ এখন পঞ্চম বোলার। ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলাররা হলেন আর্শদীপ সিং – ১০৭ উইকেট (৬৯ ম্যাচ), জাসপ্রিত বুমরাহ – ১০১ উইকেট (৮১ ম্যাচ), হার্দিক পাণ্ডিয়া – ৯৯ উইকেট (১২১ ম্যাচ), যুজবেন্দ্র চাহাল – ৯৬ উইকেট (৮০ ম্যাচ) ও ভুবনেশ্বর কুমার – ৯০ উইকেট (৮৭ ম্যাচ)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *