ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক পোশাক কারখানার শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও আশিকুর রহমান ও কাইয়ুম নামে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে এখন পযর্ন্ত গ্রেফতার হয়েছে মোট ১২ জন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে শনিবার রাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-আশিকুর রহমান (২৫) ও কাইয়ুম (২৫)। এ ঘটনায় এর আগে গ্রেফতার হয়েছে আরও ১০ জন। এ নিয়ে অভিযানে গ্রেফতার মোট ১২ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার ভালুকা আমলি আদালতে এই রিমান্ড শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন জেলার আদালত পরিদর্শক (ওসি) পীরজাদা শেখ মো. মোস্তাছিনুর রহমান।
এর আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া স্কয়ার মাষ্টারবাড়ি ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। এরপর তার মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস (২৭) তিনি জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কোয়ালিটি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।
নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস ও বোন চম্পা দাসের দাবি, উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দিপুকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দিপু শিক্ষিত এবং সচেতন ছিলেন, তিনি এমন কাজ (ধর্ম অবমাননা) করতে পারেন না।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কেন ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে র্যাব ও পুলিশের অভিযানে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ সুপার।






















































