ইউরোপীয়দের একটি বড় অংশ মনে করেন তাদের দেশে বসবাসরত বেশিরভাগ অভিবাসী ‘অবৈধ’। ইউগভের জরিপে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের নাগরিকদের ৪৪ থেকে ৬০ শতাংশ এই মত দিয়েছেন। তারা অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা নিয়মিতদের তুলনায় বেশি বলে উল্লেখ করেছেন।

সরকারি হিসাবে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা মোট বিদেশিদের তুলনায় কম। ২০২৩ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ফ্রান্সে মাত্র ২১ শতাংশ অভিবাসী কোনো একসময় ‘নথিবিহীন’ ছিলেন। পোল্যান্ডে জরিপে ৩৬ শতাংশ মনে করেন অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা বেশি, ২৮ শতাংশ উল্টো মত দিয়েছেন, আর ২২ শতাংশ সমান মনে করেন।

সাতটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চান। পোল্যান্ডের ৪৯ শতাংশ ও জার্মানির ৬০ শতাংশ সীমিত সুযোগ রাখার পক্ষে। প্রায় অর্ধেক মানুষ নতুন অভিবাসী আসা বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং বড় পরিসরে বহিষ্কার সমর্থন করেছেন। ৬৪ থেকে ৮২ শতাংশ নতুন অভিবাসী বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন।

৭৮ থেকে ৯১ শতাংশ ইউরোপীয় নিয়ম ভঙ্গকারী অভিবাসীদের বহিষ্কার চান, যারা ‘সুবিধা নিতে’ এসেছেন বলে মনে করেন। ৭৩ থেকে ৮৫ শতাংশ অনিয়মিত অভিবাসীদের বহিষ্কার করতে চান। ৬৬ থেকে ৮৫ শতাংশ বৈধ কাজের ভিসা ছাড়া অদক্ষ কাজে নিয়োজিতদের বহিষ্কার চান।

নিয়ম মেনে চলা আশ্রয়প্রার্থী, বিদেশি শিক্ষার্থী ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্নদের বহিষ্কারের প্রতি আগ্রহ কম দেখা গেছে। খুব কম মানুষ করদাতা বাড়ানো, অর্থনীতি উন্নত করা বা মানবিক দায়িত্ব বজায় রাখাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।

৫৬ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের মন্দ দিক উল্লেখ করেছেন। নিয়মিত অভিবাসন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে: স্পেনে ৪২ শতাংশ ইতিবাচক, ফ্রান্স ও জার্মানিতে ৩৮ ও ৩৯ শতাংশ নেতিবাচক। ৫২ শতাংশ ফরাসি ও ৫৭ শতাংশ জার্মান মনে করেন নিয়মিত অভিবাসনের মাত্রা অতিরিক্ত ছিল।

ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানির অর্ধেকের বেশি মানুষ এবং ৪৭ শতাংশ পোলিশ মনে করেন নিয়মিত অভিবাসীরা সমাজে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। জরিপ সংস্থা বলেছে, অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ অর্থনৈতিক কারণের বাইরে গেছে এবং পরিচয়, অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় মূল্যবোধ নিয়ে গভীর চ্যালেঞ্জ রয়েছে।